জেলা প্রতিনিধি,লক্ষ্মীপুর ॥ লক্ষ্মীপুরে র্যাবে ৬দিনের অভিযানে ৯জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ১২ তারিখ বৃহস্পতিবার ভোররাতে জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু’র উপর হামলার মধ্যদিয়ে তাদের অভিযান শুরু হয়। সাহাব উদ্দিন সাবু’র পায়ে গুলি করে যাওয়ার পথে জেলা যুবদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ জুয়েলকে চকমসজিদের সামনে মাথায় গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলে জুয়েল মারা যায়। পরে নিহতের লাশ নিয়ে চলে যাওয়ার পথে জনতার বাধার সম্মুখে পড়ে তারা। এতে দফায় দফায় তাদের সাথে ১৮দল ও সাধারন জনতার সংঘর্শ ঘটে। এ সংঘর্শ লক্ষ্মীপুর উত্তর তেমুহনী থেকে শুরু হয়ে বাগবাড়ি, ঝুমুর সিনেমা, এলজিইডি ও পুলিশ লাইনে গিয়ে বিকাল ৩টায় ঢাকা থেকে অবরুদ্ধ র্যাবকে উদ্ধারের জন্য একটি হেলিক্যাপ্টার আসার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সকাল থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এই সংঘর্শে আরোও ৩জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে এবং জনতার পিটোনিতে অজ্ঞাত ১জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হল- মাহবুব (৪০), সুমন(৩০), শিহাব(২০)। নিহত সবার লাশ পেলেও জুয়েলের লাশ পাওয়া যায় নি। পরিবার ও দলীয় নেতাদের দাবি নিহত জুয়েলের লাশ র্যাব নিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবারের পর ১৩তারিখ শুক্রবার মধ্যরাতে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. ফয়েজ আহমেদ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে র্যাব জেলা জামায়াতের নায়েবের আমীর ডা. ফয়েজ আহম্মদ এর বাসায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ডা. ফয়েজের উপর পাশবিক নির্যাতন চালায় । পরে তাকে বাড়ির ছাদে নিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এতে করে ঘটনাস্থলে তিনি নিহত হয়। পরে নিহত ডা. ফয়েজ আহম্মদকে র্যাবের গাড়িতে করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের গেইটের সামনে রেখে চলে যায় তারা।
১৫তারিখ রোববার মধ্যরাতে সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান আসাদুজ্জামান বাবুলের নিহতের খবর পাওয়া যায়।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর সূত্রে খবর পাওয়া যায়, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে র্যাবের একটি দল বাবুল বাহিনীর উপর গুলিবর্ষণ করলে ঘটনাস্থলে বাবুল ও তার এক সহযোগী নিহত হয়।
নিহতরা হলো- সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের জামিরতলী গ্রামের আমিন উল্লার ছেলে একাধিক হত্যা মামলার আসামী আসাদুজ্জামান বাবুল (৩৫) এবং তার সহযোগী একই এলাকার খোরশেদ আলম। তবে বাবুলের লাশ পাওয়া গেলেও খোেেরশদ আলম সুমনের লাশ পাওয়া যায় নি।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি মো: ইকবাল হোসেন জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে র্যাবের একটি টিম জামিরতলী গ্রামে অভিযান চালায়। এসময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বাবুল ও তার সহযোগীরা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করে। র্যাবও পাল্টা গুলি করে। গোলাগুলির একপর্যায়ে বাবুল ও তার সহযোগী খোরশেদ ঘটনাস্থলে নিহত হয়। ওসি আরোও জানান, বাবুলের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে সদর থানায় মামলা রয়েছে। সম্প্রতি সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন শামীমসহ ৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বাবুল ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।
বাবুল সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ১৭তারিখ মঙ্গলবার সকালে সন্ত্রাসী বাবুল বাহিনীর দুই সদস্যের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে তাদের মৃতদেহ বটতলী এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সার্বস্টেশনের পাশের খাল পাড়ে পড়ে থাকতে দেখে জনতা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এলাকাবাসী জানায়, রোববার রাতে সদর উপজেলার উত্তর জামিরতলী এলাকায় র্যাবের অভিযানের পর থেকে তারা দু’জন নিখোঁজ হয়। নিহতরা হলেন- আব্দুল মান্নান (৩০) ও খোরশেদ আলম সুমন (২৫)।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন জানান, নিহত দুজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
১৮তারিখ সকালে খবর পাওয়া গেল র্যাব লক্ষ্মীপুর থেকে চলে গেছে। এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ১৮দলের কিছু নেতাকর্মীকে দেখা যায়। এ কয়দিন পুরো শহর জুড়ে নেতাকর্মীদের মাঝে যে আতংঙ্ক বিরাজ করছিল বুধবার তার স্বস্থির নিঃস্বাস পেলল। তবে সবাই এখনো আতঙ্কে আছে কখন এসে কার উপর হানা দেয়।