জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ ॥ পবিত্র ঈদ উল আজহা ২০১৪ উপলক্ষে ঈদের আগের তিন দিনের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ১৮টি অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য মোট দরপত্র জমা পড়েছে ৬১টি।
রোববার দুপুর ১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দরপত্র জমা নেয়া হয়। এর মধ্যে নাসিকের কার্যালয়ে টেন্ডার বাক্সে ৫৮টি ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৩টি দরপত্র জমা পড়ে। তবে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কোনো দরপত্র জমা পড়েনি।
বিকেলে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী সবার উপস্থিতিতে নগর ভবনে দরপত্র বাক্স খোলা হয়। এ বছর সর্বোচ্চ দর উঠেছে বন্দর খেয়াঘাটের। দরপত্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলের নেতাকর্মীরাই অংশ নেয়। এ বছর ১৮টি হাট থেকে নাসিকের সর্বমোট ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার মতো আয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের বরফকল মাঠ ও খেয়াঘাট সংলগ্ন রাস্তার উপরে বসা পশুর হাটের সর্বোচ্চ ৩২ লাখ ২১ হাজার ৫শ টাকা দরদাতা হলেন-মনির হোসেন। গত বছর সর্বোচ্চ ৩২ লাখ ১২ হাজার ৩০০ টাকার দরদাতা ছিলেন হারুন অর রশিদ। জিমখানা আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়াম মাঠের সর্বোচ্চ ২৫ লাখ ২০ হাজার দরপত্র দেন রিয়াদ হাসান।
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে শীতলক্ষ্যা কোল্ড স্টোর সংলগ্ন সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ভূমিতে সর্বোচ্চ দরদাতা আব্দুর রশিদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। নবাব সলিমুল্লাহ রোডস্থ মেডিস্টার ক্লিনিক সংলগ্ন মাঠের সর্বোচ্চ ১ লাখ ১ টাকা দর দেন আনিছুর রহমান।
চারুকলা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি মাঠের সর্বোচ্চ ২ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা দরপত্র জমা দেন মোয়াজ্জেম। বন্দর ১নং খেয়াঘাট সংলগ্ন অস্থায়ী পশুর হাটের সর্বোচ্চ ৭০ লাখ টাকার দরদাতা হলেন আবুল কালাম আজাদ।
গত বছর সর্বোচ্চ ৫৩ লাখ ৫০০ হাজার টাকার দর দিয়েছিলেন কাজী জহিরুল হক। জামাল সোপ খেয়াঘাট সংলগ্ন খালি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট সর্বোচ্চ ৩৬ লাখ ৭ হাজার টাকার দরপত্র জমা দেন জামান। নবীগঞ্জ অস্থায়ী পশুর হাটের সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার দরপত্র জমা দেন ফয়সাল।
উত্তর লক্ষণ খোলা খেয়াঘাট সংলগ্ন অস্থায়ী পশুর হাটের সর্বোচ্চ ৫২ হাজার টাকার দরপত্র জমা দেন নুরুল ইসলাম চৌধুরী। সোনাকান্দা অস্থায়ী পশুর হাট সর্বোচচ ৭ লাখ ৫০ হাজার ৫১১ টাকার দরপত্র জমা দেন মনোয়ার হোসেন খোকন। চৌড়াপাড়া অস্থায়ী পশুর হাটের সর্বোচ্চ ৪ লাখ ২২ হাজার টাকা দরদাতা হলেন শাহজালাল মেম্বার।
সিদ্ধিরগঞ্জের নিউ লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিল সংলগ্ন সিটি কর্পোরেশনের খালি জায়গায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার দরপত্র জমা দেন মনির হোসেন। মিজমিজি পূর্ব পাড়া ডিএনরোড সংলগ্ন খালি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাটের সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা দরপত্র জমা দেন আব্দুল কাদের খোকন। গোদনাইল ধনকুন্ডাস্থ ইব্রাহিম টেক্সটাইল মিলসের মাঠে অস্থায়ী পশুর হাটে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকার দরপত্র জমা দেন শাহ আলম। জালকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সর্বোচ্চ ৭৬ হাজার টাকার দরপত্র জমা দেন রেজাউল করিম।
গোদনাইল শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়, এসও রোড সংলগ্ন সফর আলী ভুঁইয়ার বালুর মাঠের সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩ হাজার টাকার দরপত্র জমা দেন শাহ আলম মানিক। নিউ রাখী টেক্সটাইল মিলস্ লিমিডের উত্তর পার্শ্বে আইযুব নগর মাঠের সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার দরপত্র জমা দেন বাহাদুরউদ্দিন। আটি এলাকাস্থ মনোয়ারা জুট মিলস্ প্রা.লিমিডের পূর্ব পাশের খালি মাঠের সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার টাকার দরপত্র জমা দেন আব্দুর রহিম।
নাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ জানান, দরপত্রগুলো যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে।